Dhaka ০২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাগরে গভীর নিম্নচাপ: উপকূলে টানা তিন দিন বৃষ্টি ঝরবে, বন্দরে বহাল ৩ নম্বর সতর্কতা

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম : ০১:১০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩১ ০০০.০০.বার দেখেছেন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত পুনরায় দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আজ থেকেই উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থার পরিচালকের পক্ষে আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় (১৮.১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ, ৮৫.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৮৫০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল (২৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত নাগাদ এটি ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। মাছ ধরার নৌকা-ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, গাণিতিক মডেল অনুযায়ী বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম, তবে প্রাকৃতিক বিষয় হওয়ায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যদি এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তাহলে প্রথমে ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি তৈরি হয়ে ভারতেই আঘাত হানতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরও জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে সিস্টেমটি প্রায় ১৭.৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৬.৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছে অবস্থান করছিল এবং পশ্চিমও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছিল। আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও এখনই ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে গতিপথ ও শক্তি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের মতে, সেপ্টেম্বরের শেষভাগে এমন সিস্টেম তৈরি হলেও অক্টোবর-নভেম্বরের তুলনায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরের অনুকূল পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বুধবার থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি বাড়তে পারে, কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি, এমনকি অতিভারি বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে কমতে পারে দিন-রাতের তাপমাত্রা। বুধবার রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের অনেক এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বরও কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস আছে, তবে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর নাগাদ বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক কমে আসতে পারে বলে বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

বৃষ্টি বাড়ায় দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহও প্রশমিত হচ্ছে। সোমবার দেশের ২০ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও মঙ্গলবার তা রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী এলাকায় সীমিত ছিল। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় রংপুরে, ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজধানীতে ৩৪.৩ ডিগ্রি, যা সোমবারের (শ্রীমঙ্গলে ৩৭.৫ ও ঢাকায় ৩৬.৭ ডিগ্রি) চেয়ে কম। আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা, সাগরে এ ধরনের সিস্টেম তৈরি হলে প্রথমে বৃষ্টি কমে গরম বাড়ে, পরে সিস্টেম শক্তিশালী হলে বৃষ্টি বাড়ে—এবারও একই ধারা দেখা যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, তবে সমুদ্রবন্দর, উপকূল ও নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে জারি করা সতর্কবার্তা মেনে চলা এবং নিয়মিত হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করা জরুরি।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media