সাবেক ডিজি জাহেদ কামালের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ ও নিয়োগ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
- আপডেট টাইম : ০৩:০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৭ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি অর্জন, নিয়োগে চরম অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের মারাত্মক অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে সেনাসদরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দাপ্তরিক নথির তথ্যানুযায়ী, রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং এর আশপাশে জাহেদ কামাল ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তারের নামে একক ও যৌথ মালিকানায় একগুচ্ছ জমি, প্লট ও ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে:
জোয়ার সাহারা (বসুন্ধরা সংলগ্ন): ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪-এর দলিল (নং ৯৬৮০) অনুযায়ী ০.৪৯০১ একর জমির ওপর ১১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং।
ডুমনি মৌজা: যৌথ মালিকানায় দুটি পৃথক জোতে (৬/১৯ এবং ১৪৩০/১৯) মোট ৯.৯ শতক (৪.৯৫ শতক করে) জমি।
পূর্বাচল (কুতুবপুর মৌজা): ৪৫৮৬ নম্বর জোতে ৪.৯৫ শতক জমির প্লট।
রূপগঞ্জ (নাওড়া মৌজা): ৯৯৭৬ নম্বর জোতে ৮.২৬ শতক জমি।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, একজন সরকারি সামরিক কর্মকর্তার বৈধ বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণ কিংবা স্বীকৃত আয়ের উৎসের সাথে এসব বিলাসবহুল সম্পদের মূল্যের কোনো সামঞ্জস্য নেই। সার্বিক সততা বিচারে তাঁর ব্যাংক লেনদেন, আয়কর রিটার্ন এবং সম্পদ বিবরণী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
জাহেদ কামালের মেয়াদে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা:
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ঘুষ চাওয়া: ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রতি পদের জন্য ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন: ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে চাকরিপ্রার্থীরা একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের হাত ধরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং তাৎক্ষণিক নিয়োগ বাতিলসহ ডিজি জাহেদ কামালের অপসারণ দাবি করেন।
যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং ভিডিও রেকর্ডিং ব্যবহার করে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাহেদ কামাল, কিন্তু মাঠপর্যায়ের অসন্তোষ কমেনি।
শুধু নিয়োগ নয়, ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ কেনাকাটা, বদলি-পদায়ন, কর্মকর্তা পুনর্বহাল, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সেবার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম ফায়ার সার্ভিস সদরে ঝটিকা অভিযান চালায়। সেসময় দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করার পাশাপাশি একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস প্রধানের পদে রদবদল
এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগের আবহেই ফায়ার সার্ভিসের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এনেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এক আদেশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসন (ফেরত) করা হয়েছে। একই আদেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদকে।















