হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরও স্টেডিয়াম মার্কেটের ৩৭ দোকান বন্ধ, জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
- আপডেট টাইম : ০২:৪৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৩৬ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়াম মার্কেটের ৩৭টি দোকান বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটের ভাড়া ও জামানত বৃদ্ধির বিষয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশের পরও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবুসাঈদ।
ভাড়া-জামানত বৃদ্ধিকে ঘিরেই বিরোধ
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার মালিকানাধীন স্টেডিয়াম মার্কেটের ৩৭টি দোকান ২০০১ সালে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা জামানত এবং মাসিক ৩০০ টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সাল থেকে ব্যবসায়ীরা মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন।
চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন করে প্রতিটি দোকানের জামানত ৫ লাখ টাকা এবং মাসিক ভাড়া ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে চুক্তি নবায়নের জন্য বলা হয়। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এরপর মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাসহ কয়েকজনের মাধ্যমে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, রিট পিটিশন নং-১৩৬৮৭/২০২৬-এ গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্ট আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
কিন্তু এর পরদিন, ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে মার্কেটের দোকানগুলো বন্ধ করে দেয় বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—আদালতের আদেশের পরও কেন দোকান বন্ধ?
ব্যবসায়ীদের দাবি, আদালতের আদেশের বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল। এরপরও দোকান বন্ধ করে দেওয়ায় তারা আইনগত প্রতিকারের কথা বলছেন।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকানগুলো জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম ভাড়ায় ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। ব্যবসায়ীদের চুক্তি নবায়নের জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তাতে সাড়া দেননি—এমন দাবি করেছে প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, হাইকোর্টের আদেশের কোনো অফিসিয়াল কপি তারা পাননি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘টাকা দাবির’ অভিযোগ—প্রমাণের অপেক্ষায়
এদিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জেলা প্রশাসক বা তাঁর অধীন কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বা অবৈধ অর্থ দাবির অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। তাই এসব অভিযোগকে যাচাই না করে সত্য হিসেবে প্রকাশ না করে তদন্তের দাবি হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কাঠের মূর্তির মতো পদে বসে আছি। অনেক বিষয় দেখলেও কথা বলতে পারি না। কথা বললে চাকরিতে সমস্যা হতে পারে।”
তবে ওই কর্মকর্তার পরিচয় ও বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করাও সমীচীন নয়।
প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা নিয়ে প্রশ্ন
স্টেডিয়াম মার্কেটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নথিপত্র, ইজারা/বরাদ্দ প্রক্রিয়া, ভাড়া নির্ধারণ এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নথি, ক্রীড়া সংস্থার সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট চিঠিপত্র এবং হাইকোর্টের আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান প্রয়োজন।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকলে পরবর্তী পর্বে ভাড়া ও জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের নথি, ৩৭টি দোকানের বরাদ্দের শর্ত, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে আরও তথ্য তুলে ধরা যেতে পারে।
প্রশ্ন এখন একটাই—হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ ও স্থিতাবস্থার নির্দেশের পরও কোন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকানগুলো বন্ধ করা হলো? বিষয়টির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অনুসন্ধান চলছে।












