জিন্নাহর ছবি বিতর্ক: তারেক রহমানকে বিপদে ফেলার নতুন কোনো রাজনৈতিক কৌশল?
- আপডেট টাইম : ০৩:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৭ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ছবিটি সংগ্রহ ভিডিও থেকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই বিতর্ক কি শুধুই ইতিহাসের একটি অধ্যায় তুলে ধরার ঘটনা, নাকি এর পেছনে বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ রয়েছে?
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ দাবি করেছেন, জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতেই সংগ্রহশালায় তাঁর ছবি রাখা হয়েছে। ছবির সঙ্গে জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের তথ্যও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল জিন্নাহর ছবি অপসারণের দাবি জানিয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবি সরানো না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, জিন্নাহর ছবি ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপরও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইতিহাস, পাকিস্তান, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদের মতো স্পর্শকাতর বিষয় সামনে এনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নতুন বিতর্ক তৈরি করার সুযোগ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাউকে দায়ী করার আগে ঘটনার নেপথ্য উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক যোগাযোগগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস প্রকাশ্য বক্তব্যে তারেক রহমানকে দলের ভেতর-বাইরের সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র হতে পারে এবং তাঁকে সতর্ক থাকতে হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—জিন্নাহর ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক কি শুধুই ইতিহাসচর্চা, নাকি এর মাধ্যমে নতুন কোনো রাজনৈতিক ফাঁদ তৈরি হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তই দিতে পারে প্রকৃত উত্তর।
তদন্ত ও তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো পক্ষকে দায়ী না করে, জিন্নাহর ছবি বিতর্কের নেপথ্যে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সক্রিয়—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।



















