Dhaka ১২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাশিমপুরে ১৪৫ ধারার মামলা চলাকালে জমিতে দেয়াল নির্মাণের প্রস্তুতির অভিযোগ, আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ০১:১৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২৬ ০০০.০০.বার দেখেছেন

গাজীপুর প্রতিনিধি | দৈনিক সময়ের কণ্ঠ

কাশিমপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন বারান্দা মৌজার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ১৪৫ ধারায় মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে দেয়াল নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাহবুবুর রহমান, কৃষ্ণ গোপাল ও সাইজ উদ্দিন মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। জমির মালিকদের দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধ আরও জটিল হতে পারে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহবুবুর রহমানের পিতা মৃত রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া কৃষ্ণ গোপাল আওয়ামী লীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। সাইজ উদ্দিন মোল্লা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধেও জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক এবং দলিলের বৈধতা সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং জমির দলিলপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আদালতে মামলা, তবুও নির্মাণের প্রস্তুতির অভিযোগ

জমির মালিকদের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে দেয়াল নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নির্মাণকাজ শুরু হলে জমির বর্তমান অবস্থা পরিবর্তিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন জটিল হয়ে উঠতে পারে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। এসব পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁরা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।

ভুয়া দলিল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পেছনে জাল বা ভুয়া দলিল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুলাই-সম্পর্কিত দুটি মামলার কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। তবে মামলাগুলোর সুনির্দিষ্ট নম্বর, ধারা, বর্তমান অবস্থা এবং অভিযোগগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই এসব অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা

জমির মালিকেরা সংশ্লিষ্ট আদালত, কাশিমপুর থানা ও ভূমি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, দখলের ইতিহাস এবং আদালতে চলমান মামলার নথি যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা হোক।

তাঁরা আরও বলেন, আদালতে বিচারাধীন বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পরিস্থিতি জটিল না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন।

আইন কী বলছে?

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা মূলত জমি বা অন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধ থেকে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপের বিধান। এ ধরনের মামলায় কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশের ওপর নির্ভর করে। শুধু ১৪৫ ধারার মামলা চলমান থাকলেই সব ধরনের নির্মাণকাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের বক্তব্য: বারান্দা মৌজার বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং নথিভিত্তিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।

প্রতিবেদনটি অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media