Dhaka ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরাগ নদীতে সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার, বন্ধুকে PBI হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

ঢাকা প্রতিনিধি | দৈনিক সময়ের কণ্ঠ
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২ ০০০.০০.বার দেখেছেন

রাজধানীর তুরাগ নদী থেকে সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে ২৮ বছর বয়সী সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI)।

ঘটনার তদন্তে নিহতের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন দ্বীপ। তাঁর দেওয়া বক্তব্য ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অন্য একটি প্রতিবেদনে নদীর প্রায় ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হতে যাচাই-বাছাই চলছে।

এদিকে, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভিডিওর বিবরণ অনুযায়ী, একটি ইনডোর পার্কিং এলাকায় সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফের সঙ্গে বেইজ রঙের শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে হাত মেলাতে দেখা যায়। পাশাপাশি নদীর পাড়ে পিবিআই সদস্যদের তদন্ত কার্যক্রম এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের দৃশ্যও সামনে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাহসিফকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, দ্বীপের বক্তব্যে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে বলে সূত্রের দাবি। একটি বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, তাহসিফ ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় কিংবা বিদেশি কোনো চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। নৌ পুলিশ ও পিবিআই যৌথভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করছে।

একজন সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনা—তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তবে এখন পর্যন্ত নিহতের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের স্বার্থে তাঁর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোটরসাইকেলসহ উদ্ধার করা অন্যান্য আলামত যাচাই করা হচ্ছে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media