বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ পরিচয়ে আবারও সেই ব্রিজে ব্যবসায়ীর আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওসিকে জানানো হলেও মেলেনি সমাধান; ওসি বললেন—‘তাদের ডেকে এনেছি, তারা এ কাজ করেনি’—আগেও একই ব্রিজে ৫–৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট টাইম : ১২:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৭৪ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে বাঞ্ছারামপুর থানার আওতাধীন একটি ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিজের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে আনিসুর রহমানকে থামান। পরে তার কাছে মাদক আছে কি না জানতে চাওয়া হয় এবং সঙ্গে থাকা ব্যাগ দেখানো হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, তার কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে ব্যাগে থাকা আড়াই লাখ টাকা তাদের নজরে আসে।
অভিযোগকারী জানান, ঘটনার সময় কনস্টেবল নূর আলী ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিওতে টাকা দেখানোর পর পরিস্থিতি পরিবর্তন হয় এবং অভিযোগ অনুযায়ী ওই টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। টাকা নিয়ে নেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ করলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আনিসুর রহমান।
ওসিকে জানালেও কী হলো?
ঘটনার পর বিষয়টি বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে দৈনিক সময়ের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক মুঠোফোনে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেন। ওসি জানান, তিনি সংশ্লিষ্টদের থানায় ডেকে এনেছেন এবং তারা এ কাজ করেনি বলে জানিয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান তার অভিযোগে অটল রয়েছেন। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, ঘটনাস্থলের সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা হয়েছে কি না?
এসআই কুদ্দুস ও দুই কনস্টেবলের নাম
ভুক্তভোগীর অভিযোগে বাঞ্ছারামপুর থানার এসআই কুদ্দুস, কনস্টেবল নূর আলী ও কনস্টেবল শফিকুলের নাম এসেছে।
তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। তারা অভিযোগ অস্বীকার করলে সেটিও যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
একই ব্রিজে আগেও ৫–৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও একই ব্রিজের ওপর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ব্যক্তিদের আটক বা থামিয়ে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
আগের এসব অভিযোগেরও স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তবে একই স্থানে বারবার একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রশ্ন উঠছে—মাদক না থাকলে আড়াই লাখ টাকা গেল কোথায়?
বর্তমান ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—আনিসুর রহমানের কাছে মাদক পাওয়া না গেলে তার ব্যাগে থাকা আড়াই লাখ টাকা কীভাবে পুলিশের সদস্যদের হাতে গেল বলে অভিযোগ উঠল?
ভিডিওতে যদি সত্যিই ওই টাকা দেখা যায়, তাহলে ভিডিওটির মূল কপি পরীক্ষা করে দেখা জরুরি। ভিডিওর কোনো অংশ কাটা বা পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না, কার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং পরে টাকা কার কাছে ছিল—এসব বিষয় তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে।
অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়; আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী আনিসুর রহমানের অভিযোগ, পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে তাকে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং পরে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে থানার ওসির বক্তব্য—সংশ্লিষ্টদের ডেকে আনা হয়েছে এবং তারা এ কাজ করেনি বলে জানিয়েছে।
দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ জরুরি।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধান চলছে। ভিডিও ফুটেজ, ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদনে আরও তথ্য তুলে ধরা হবে।







