Dhaka ১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক-চাঁদাবাজমুক্ত রাজশাহীর প্রচারণা, বাস্তবে কতটা মুক্ত নগরী? পুলিশ কমিশনারের প্রশংসার ফুলঝুরি, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাইয়ের দাবি

অনুসন্ধানী রিপোর্টার রাজশাহী
  • আপডেট টাইম : ০৩:০২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯১ ০০০.০০.বার দেখেছেন

রাজশাহী মহানগরীকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার ঘোষণা এবং পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নেতৃত্বের প্রশংসায় বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা। কোথাও তাঁকে সফল পুলিশ প্রশাসক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, কোথাও তাঁর নেতৃত্বে রাজশাহীতে অপরাধ কমে যাওয়ার দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এসব প্রশংসার বাস্তব ভিত্তি কতটুকু? সত্যিই কি রাজশাহী মহানগরী মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত হয়েছে, নাকি কিছু অভিযান, সভা-সেমিনার ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে অপরাধ দমনের সাফল্যের প্রচারণা?

একজন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব শুধু সভায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হবে নগরীর সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ, ব্যবসায়ীরা কতটা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছেন এবং তরুণ সমাজ মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে কতটা মুক্ত থাকতে পারছে—তার ওপর।

মাদকবিরোধী অভিযানে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের দাবি করা হলেও এসব অভিযানের পর মাদকের সরবরাহ কতটা কমেছে, নতুন করে কারা এই ব্যবসায় জড়িত হচ্ছে এবং মাদকের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জনসম্মুখে বিস্তারিত তুলে ধরা প্রয়োজন।

শুধু মাদক বহনকারী কিংবা সেবনকারীকে আটক করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় অভিযান চলবে, গ্রেপ্তার হবে, কিন্তু মাদকের বিস্তার বন্ধ হবে কি না—সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।

অন্যদিকে চাঁদাবাজি বন্ধের যে দাবি করা হচ্ছে, তারও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন। সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর ও আরডিএ মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসায়ীরা সত্যিকার অর্থে কতটা নিরাপদ, তা জানতে হবে সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে কতটি মামলা হয়েছে, কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং অভিযোগগুলোর বিচারিক অগ্রগতি কী—এসব তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।

পুলিশের কল্যাণ সভা, সদস্যদের খেলাধুলার সরঞ্জাম প্রদান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা কিংবা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আয়োজন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের অংশ। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসব আয়োজন দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা যাবে না।

রাজশাহীর নাগরিকদের প্রশ্ন—মহানগরীর প্রতিটি এলাকায় কি মাদক বিক্রি বন্ধ হয়েছে? কিশোর অপরাধ, ছিনতাই, চুরি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ কি সত্যিই কমেছে? সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে হয়রানিমুক্ত সেবা পাচ্ছেন কি? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রচারণায় নয়, প্রয়োজন তথ্য-উপাত্ত ও বাস্তব পরিস্থিতির মাধ্যমে।

একজন পুলিশ কর্মকর্তার পদক, পদমর্যাদা কিংবা প্রশংসাপত্রের চেয়ে বড় বিষয় হলো জনগণের আস্থা। রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) একজন কর্মকর্তার স্বীকৃতি হতে পারে, কিন্তু সেই স্বীকৃতির পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধানী প্রশ্ন: রাজশাহীকে মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত করার যে দাবি করা হচ্ছে, তার পক্ষে পূর্ণাঙ্গ অপরাধ পরিসংখ্যান, গ্রেপ্তার ও মামলার তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের স্বাধীন যাচাই কি প্রকাশ করা সম্ভব?

আমরা মনে করি, ব্যক্তির প্রশংসা কিংবা সমালোচনা নয়—জনগণের নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং প্রশাসনের জবাবদিহিই হওয়া উচিত সংবাদমাধ্যমের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

অনুসন্ধান চলমান।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media