Dhaka ০৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে কর্মকর্তা বদলেছে, বদলায়নি হয়রানির অভিযোগ নতুন উপপরিচালক হালিমা খাতুনের দায়িত্ব গ্রহণের পরও দালালনির্ভরতার অভিযোগ, ফোনেও মেলেনি স্পষ্ট জবাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৭৪ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপপরিচালক পরিবর্তন হলেও সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি ও অনিয়মের অভিযোগের দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই। সাবেক উপপরিচালক শাহজাহান কবিরের বদলির পর নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন হালিমা খাতুন। তবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পরও দালাল ছাড়া সরাসরি আবেদন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

অভিযোগ রয়েছে, দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে কাজ তুলনামূলক সহজে সম্পন্ন হলেও সরাসরি আবেদনকারীদের নানা ভুল দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক মাহবুবুল নূর তাঁর বৃদ্ধ মা ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সহযোগিতা চাইতে উপপরিচালক হালিমা খাতুনের কাছে গেলে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। এমনকি তাঁর ভিজিটিং কার্ড আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করার পর নিচতলার ১০৫ নম্বর কক্ষে সেটি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করেন তিনি।

এ ছাড়া আঙুলের সমস্যায় থাকা এক আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের পরও একাধিকবার বিভিন্ন কক্ষে ছোটাছুটি করতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দালালের মাধ্যমে জমা দেওয়া কিছু আবেদন তুলনামূলক সহজে সম্পন্ন হচ্ছে। এমনকি আবেদনপত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ই-মেইল সংকেতের মাধ্যমে দালালের আবেদন শনাক্ত করা হয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মুন্সিগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযানের সময় হালিমা খাতুন সেখানে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে বিভিন্ন নথি ও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় হাজিরা খাতা যাচাই না করা এবং নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছিল।

ফোনে যোগাযোগ করেও মেলেনি স্পষ্ট জবাব

বর্তমান পরিস্থিতি ও উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক হালিমা খাতুনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক ও সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। ফলে পাসপোর্ট অফিসের সেবার মান, আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং দালালদের কথিত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালকের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

পরবর্তী পর্বে: পাসপোর্ট অফিসে দালালদের কথিত প্রভাব, অফিস সময়ের পর অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এবং আবেদনপত্রের ই-মেইল সংকেতের রহস্য নিয়ে আরও তথ্য-প্রমাণসহ অনুসন্ধান প্রকাশ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ এবং স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকর তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media