Dhaka ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রীদের শপথের পরই বাড়ছে কলরেট-ডাটা খরচ? গ্রাহকের প্রশ্ন, জিপি কোথায় যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ০১:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩৪ ০০০.০০.বার দেখেছেন

{"source_type":"vicut","data":{"client_key":"aw889s25wozf8s7e","source_type":"vicut","source_platform":"mobile_2","appVersion":"19.1.0","enterFrom":"new_image","os":"android","product":"vicut","editType":"image_edit","region":"BD","picture_id":"ROY3OFG9-4Z5Q-9I3F-DBDM-99QJ4T8SK083","pictureId":"ROY3OFG9-4Z5Q-9I3F-DBDM-99QJ4T8SK083","capability_name":"capcut_photo_editor"},"tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"client_key":"aw889s25wozf8s7e","source_type":"vicut","source_platform":"mobile_2","appVersion":"19.1.0","enterFrom":"new_image","os":"android","product":"vicut","editType":"image_edit","region":"BD","picture_id":"ROY3OFG9-4Z5Q-9I3F-DBDM-99QJ4T8SK083","pictureId":"ROY3OFG9-4Z5Q-9I3F-DBDM-99QJ4T8SK083","capability_name":"capcut_photo_editor"}"}

নতুন মন্ত্রীদের শপথের পরপরই মোবাইল কলরেট ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, প্যাকেজে নির্ধারিত ডাটা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, কল করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের মান নিয়েও ভোগান্তি বাড়ছে।

তবে মন্ত্রীদের শপথের সঙ্গে সঙ্গে অপারেটররা ইচ্ছাকৃতভাবে কলরেট বা ডাটার দাম বাড়িয়েছে—এমন সরাসরি প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন—বিটিআরসির গণশুনানিতে গ্রাহকেরা উচ্চ কলরেট, দুর্বল নেটওয়ার্ক, ডাটা মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ও অব্যবহৃত ডাটা নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, বিটিআরসি সম্প্রতি ভয়েস কলের সর্বনিম্ন মূল্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহকদের অভিযোগের বিপরীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আলোচনায় বরং কল খরচ কমানোর বিষয়টিই সামনে এসেছে।

গ্রাহকের প্রশ্ন—টাকা যাচ্ছে কোথায়?

মোবাইল ইন্টারনেট এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। শিক্ষা, ব্যবসা, ব্যাংকিং, যোগাযোগ থেকে শুরু করে সংবাদ—সব ক্ষেত্রেই মোবাইল ডাটার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে অল্প সময়ে ডাটা শেষ হয়ে গেলে কিংবা প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সরাসরি বাড়তি অর্থ গুনতে হয় গ্রাহককে।

সাম্প্রতিক গণশুনানিতেও গ্রাহকেরা ডাটা এক্সপায়ার, ক্যারি-ফরওয়ার্ড সুবিধা এবং নেটওয়ার্কের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত মোবাইল ইন্টারনেট নিশ্চিত করার বিষয়টিও সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অপারেটরদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘১৭ বছরের বিএনপির পেট খালি’—প্রশ্নটা কি সেখানেই?

রাজনৈতিক মহলে কেউ কেউ মোবাইল খরচ বৃদ্ধির অভিযোগকে সরকারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা ‘রাজস্ব ঘাটতি পূরণের চাপ’-এর সঙ্গে যুক্ত করে নানা মন্তব্য করছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও দেখা যাচ্ছে।

তবে কোনো রাজনৈতিক দলের ‘পেট খালি’ বা সরকারের অর্থ সংকটের কারণে সরাসরি মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকের কাছ থেকে বেশি টাকা কাটছে—এমন দাবি প্রমাণ ছাড়া সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল হবে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—কল ও ডাটার প্রকৃত মূল্য কত, কর ও অন্যান্য চার্জ কত, অপারেটর কী হারে টাকা কাটছে এবং বিটিআরসির অনুমোদিত ট্যারিফের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না?

জিপির ডাটা ‘গায়েব’—অভিযোগের তদন্ত জরুরি

গ্রামীণফোনসহ বিভিন্ন অপারেটরের গ্রাহকদের মধ্যে ডাটা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে এটি অপারেটরের অনিয়মের প্রমাণ নয়; ভিডিও স্ট্রিমিং, স্বয়ংক্রিয় আপডেট, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ও উচ্চমানের কনটেন্টের কারণে ডাটা দ্রুত ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই কোনো গ্রাহকের ডাটা অস্বাভাবিকভাবে কেটে গেলে অপারেটরের কাছ থেকে ডাটা ব্যবহারের বিস্তারিত হিসাব চাওয়া এবং প্রয়োজনে বিটিআরসিতে অভিযোগ করা জরুরি। ২০২১ সাল থেকে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ৬৬ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গ্রাহকের স্বার্থে স্বচ্ছতা দরকার

মোবাইল ফোন এখন বিলাসিতা নয়—এটি নাগরিকের যোগাযোগের মৌলিক মাধ্যম। তাই কলরেট, ইন্টারনেট প্যাকেজ, কর, মেয়াদ এবং ডাটা ব্যবহারের হিসাব—সবকিছু গ্রাহকের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

মন্ত্রীদের শপথের সঙ্গে কলরেট বৃদ্ধির কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, সেটি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নয়, বিটিআরসির অনুমোদিত মূল্য, অপারেটরদের ট্যারিফ এবং গ্রাহকের কল-ডাটা ব্যবহারের হিসাব যাচাই করেই নির্ধারণ করা উচিত।

গ্রাহকদের এখন একটাই দাবি—কলের টাকা ও ডাটা কোথায় যাচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব চাই। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে প্রশ্ন—অভিযোগ সত্য হলে দায়ী অপারেটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে কি না, আর সেবার মান খারাপ হলে গ্রাহকই কেন তার মূল্য দেবেন?

প্রতিবেদনটি অভিযোগ ও গ্রাহকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে; কলরেট বা ডাটা কাটার বিষয়ে নির্দিষ্ট অপারেটরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ট্যারিফ ও ব্যবহারের রেকর্ড যাচাই প্রয়োজন।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media