Dhaka ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টঙ্গীর কেরানিটেকসহ আশপাশে মাদকের এক আতঙ্কের নাম মিন্টু ও রহিম এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে

মোঃ আবু হাসান আকন্দ। নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ১১:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / ২১৮ ০০০.০০.বার দেখেছেন

গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন কেরানিটেকসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার বর্তমানে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনে চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট, যার প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিন্টু, রহিম এবং রহিমের স্ত্রী এই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তাদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিতভাবে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।এলাকাবাসীরা জানান সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে মাদক কেনাবেচা চলে। বিশেষ করে অলিগলি, নির্জন স্থান ও ভাড়া বাসাগুলোকে কেন্দ্র করে এই অবৈধ লেনদেন বেশি হয়, যা স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক সময় মাদকাসক্তদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, মারামারি ও চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে, ফলে সাধারণ মানুষ চলাফেরায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে।

অভিভাবকদের মতে, এলাকার কিশোর ও তরুণরা খুব সহজেই এই মাদকের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী অনেক ছাত্র ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, যার ফলে তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে পুরো সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।আরও অভিযোগ রয়েছে এই মাদক সিন্ডিকেট অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে একাধিক বাড়ি, জমি এবং নামে-বেনামে ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের এই হঠাৎ সম্পদের উত্থানই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বড় প্রমাণ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনা হলেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না বলে দাবি তাদের। ফলে মাদক কারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।।

স্থানীয়দের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। ওর একাধিক ঘর বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কেরানিটেক বস্তিতে বসবাস করছেন। বিলাসবহুল গাড়ী ১০-১৫ রয়েছে একই সঙ্গে কেরানিটেকসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত অভিযান জোরদার করা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।সচেতন মহল মনে করছে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। তাই মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media