Dhaka ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজমিরীগঞ্জের হাওরে নিষিদ্ধ রিং জালের দৌরাত্ম্য, হুমকিতে দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
  • আপডেট টাইম : ০৮:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / ৩০২ ০০০.০০.বার দেখেছেন

আজমিরীগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার। স্থানীয়ভাবে ‘চায়না দুয়ারী জাল’ নামে পরিচিত এই অবৈধ জাল প্রকাশ্যেই ব্যবহার করায় দেশীয় প্রজাতির মাছ, মাছের প্রজনন এবং হাওরের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলোতেই নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা হচ্ছে এই নিষিদ্ধ জাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি নির্বিচারে মাছ শিকার করছে।

রিং জালের ব্যবহার বাড়ার কারণে প্রতিবছর হাওরে মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এর প্রভাবে মাছের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। বাজারে সরবরাহ কমায় সাধারণ মানুষকে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় হাওরে প্রচুর পরিমাণে বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলা, মৃগেল, বাউশ, শোল, শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা, পুঁটি ও মলা মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আগের মতো এসব মাছ আর দেখা যায় না। অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ দিন বিরল হয়ে পড়ছে।সচেতন মহল বলছে, নিষিদ্ধ রিং জাল শুধু বড় মাছ নয়, মাছের পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছও নির্বিচারে ধরে ফেলছে। পাশাপাশি কাঁকড়া, ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও এই জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। ফলে হাওরের প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সচেতনরা জানান, এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা দ্রুত কমে যাবে এবং হাওরের অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও সংকটে পড়বে। তাই হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সোহানুর রহমান জানান, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহে অভিযান পরিচালনা করে ৭০টি নিষিদ্ধ রিং ও কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল একা সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যেখানে উৎপাদন হয়, সেখানেই দমন করতে হবে।”,

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media