উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মোংলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- আপডেট টাইম : ১২:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / ৩২১ ০০০ বার

উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মোংলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ই জুলাই) উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), মোংলার যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমবায় সমিতির সদস্য, নারী উদ্যোক্তা, যুব প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, মোংলা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সবুজ বৈরাগী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান হাওলাদার, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, “একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি রচিত হয় গ্রামের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে। কৃষি, সমবায়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। উন্নত পল্লী গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, “গ্রাম হবে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে। পল্লী উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উন্নত ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে পল্লী উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সবুজ বৈরাগী বলেন, “বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। সমবায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সঞ্চয় গঠন, ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে। উন্নত পল্লী গড়ে তুলতে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বি আর ডিপির জুনিয়র অফিসার মোঃ আঃ রহিম খান বলেন, “গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত করা এবং সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ আহসান হাবিব হাসান বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো গ্রামীণ উন্নয়ন। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। উন্নত পল্লী গড়ে উঠলেই একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান পরিবেশবিদ নুর আলম শেখ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন, উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. নাবিদুল ইসলাম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায় সমিতির প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভা শেষে বক্তারা উন্নত পল্লী গঠন, সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ও আন্তরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।














