ধরা খেলেন চিহ্নিত দালাল, ‘চ্যাংদোলা’ করে আনলেন আনসার সদস্যরা বাইরে দালাল, অফিসের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী—অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ভুক্তভোগীদের
- আপডেট টাইম : ০৭:০৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১১২ ০০০.০০.বার দেখেছেন

পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অফিসের বাইরে চিহ্নিত দালালদের তৎপরতার পাশাপাশি এবার অফিসের ভেতরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত দালাল হিসেবে ধরে আনসার সদস্যরা ‘চ্যাংদোলা’ করে নিয়ে আসার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দালালির অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—দালাল যদি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকেন, তাহলে এতদিন তাকে ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসের বাইরে একটি দালালচক্র সক্রিয় থাকলেও শুধু বাইরের দালালদের দায়ী করে বিষয়টি শেষ করার সুযোগ নেই। কারণ, তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দালালদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।
সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হন। অথচ দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ সহজে হয়ে যায়—এমন অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দালালরা যদি অফিসের ভেতরে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পায়, তাহলে তারা কীভাবে নিয়মিতভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে?
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, বাইরে দালাল আর ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী—এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটি কি কখনো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়েছে?
শুধু একজন দালালকে ধরে নিয়ে আসলেই কি সমস্যার সমাধান হবে, নাকি দালালচক্রের পেছনে থাকা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা হবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য কি না তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—দালাল ধরা পড়ল, কিন্তু দালালদের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে যাদের নাম উঠছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে কবে?














