নারায়ণগঞ্জে দিনদুপুরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি নিরাপত্তা কোথায়? পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট টাইম : ১২:১৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১১৫ ০০০.০০.বার দেখেছেন

প্রকাশ্য দিবালোকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ঢাকেশ্বরী বাজারে স্বর্ণের দোকানে অস্ত্রধারীদের ডাকাতির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দোকানে ঢুকে দোকান মালিক ও উপস্থিত লোকজনকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, রুপার গহনা ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন উঠছে—ব্যস্ত বাজার এলাকায় দিনের আলোয় অস্ত্রধারী একটি দল কীভাবে এতটা সময় ধরে একটি স্বর্ণের দোকানে অবস্থান করে লুটপাট চালিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেল?
ঘটনাটি নিছক আকস্মিক ডাকাতি, নাকি এর পেছনে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ, দোকানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং পালানোর পথ নির্ধারণের মতো পরিকল্পনা ছিল—তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।
ইতোমধ্যে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত টাকা, রুপার গহনা ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক মন্তব্য করছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর অবস্থানের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের এই ডাকাতির কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।
তাই প্রশ্নটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ—দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যেই যদি দিনের বেলায় একটি স্বর্ণের দোকানে সশস্ত্র ডাকাতি হতে পারে, তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
পরিকল্পিত ডাকাতি কি না—তদন্ত দাবি
একাধিক অস্ত্রধারীর অংশগ্রহণ, দিনের ব্যস্ত সময়ে দোকানে প্রবেশ, দ্রুত লুটপাট এবং পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে ডাকাতিটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি উঠেছে।
পুলিশের উচিত সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার ক্যামেরার ফুটেজ এবং আসামিদের পারস্পরিক যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল তা বের করা।
প্রশ্ন একটাই—দিনের আলোয় যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে রাতের অন্ধকারে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
অনুসন্ধান চলমান।














