ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন নিয়ে উঠছে নানা অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
- আপডেট টাইম : ১০:৩৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৯৮ ০০০.০০.বার দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক সময়ের কণ্ঠ
জেলা প্রশাসকের দায়িত্বের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। রাজস্ব ও ভূমি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি, সরকারি সম্পত্তি, নির্বাচনসংক্রান্ত প্রশাসনিক সমন্বয়, দুর্যোগ ও ত্রাণ, জনঅভিযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের তদারকি—এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বসংক্রান্ত সরকারি চার্টারেও এসব দায়িত্বের বিস্তৃত তালিকা রয়েছে।
এই বিশাল দায়িত্বের কারণে কোনো জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা নাগরিক সেবা নিয়ে অভিযোগ উঠলে সেগুলো অভিযোগ হিসেবেই গ্রহণ করে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনকে ঘিরে বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দৈনিক সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধান চলমান। ভূমি, সরকারি রাজস্ব, সরকারি সম্পত্তি, শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ ও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের কোনটি সত্য, কোনটি অসত্য এবং কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দায় আছে কি না—তা নির্ধারণের জন্য নথিপত্র ও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
সরকারি ফোনে যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের সরকারি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদকের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনটি সরাসরি জেলা প্রশাসক রিসিভ না করে অফিসের একজন স্টাফ ফোন ধরেন এবং জেলা প্রশাসক ব্যস্ত আছেন বলে জানান। পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন-ব্যাক পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে ফোন না ধরা বা ফোন-ব্যাক না করাকে অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে দেখছে না দৈনিক সময়ের কণ্ঠ। বরং এটি প্রশাসনিক যোগাযোগ ও জনসাধারণের সঙ্গে জবাবদিহির প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের ব্যস্ততার যৌক্তিক কারণও থাকতে পারে।
নিরপেক্ষ তদন্তই পারে অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট করতে
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি তথ্য অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ওই মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বের মধ্যে জনঅভিযোগ ও অনুসন্ধান-সংক্রান্ত দায়িত্বও সরকারি চার্টারে উল্লেখ রয়েছে।
তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনকে ঘিরে যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
বিশেষ করে তদন্তে দেখা যেতে পারে—
ভূমি ও খাসজমি ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না;
সরকারি রাজস্ব ও সরকারি পাওনা আদায়ে কোনো অনিয়ম আছে কি না;
সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না;
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ সত্য কি না;
অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না;
নাগরিক ও সাংবাদিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে কার্যকর আছে কি না।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের দাবি: অভিযোগগুলোকে সত্য ধরে নেওয়া নয়, আবার অভিযোগগুলো উপেক্ষাও নয়—প্রয়োজন নথিনির্ভর, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তির বিষয়টিও স্পষ্ট করা উচিত।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
















