Dhaka ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্সিগঞ্জে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভুয়া অনুদানের নামে অর্থ আত্মসাৎ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৫০ শিক্ষক প্রতারিত

অনুসন্ধান রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৩৭ ০০০.০০.বার দেখেছেন

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নাম ভাঙিয়ে পরিচালিত এই জালিয়াতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্তত ৫০ জন শিক্ষক প্রতারিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ ও জালিয়াতির কৌশল ভুক্তভোগী শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিরাজদিখান উপজেলার সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার রেশমা খানমের অধীনস্থ কেয়ারটেকারদের মাধ্যমে তাঁদের দুটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। ওই নম্বরে কল দিলে আবদুল্লাহ আল মামুন ও আলী আকবর চৌধুরী নামে দুজন ব্যক্তি নিজেদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের প্রতি ৪,৫০০ টাকা নগদ এবং শিক্ষা উপকরণ ও উপহারসহ মোট ১০,০০০ টাকা মূল্যের প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে শর্ত হিসেবে প্রতি প্যাকেজের বিপরীতে ৫৮০ টাকা করে অগ্রিম জমা দিতে বলা হয় এবং দাবি করা হয়, অনুদান দেওয়ার সময় এই টাকা সমন্বয় করা হবে।

আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ চাকরি ও কেন্দ্র বাতিলের ভয়ে অনেকে মুখ না খুললেও, বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন ৬ জন শিক্ষক:

মাওলানা মাহমুদুর হাসান (বালুচর ইউনিয়ন): ৯০,০০০ টাকা

মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (কেয়াইন ইউনিয়ন): ১৫,০০০ টাকা

মাওলানা শহীদুল ইসলাম নাঈম (কেয়াইন ইউনিয়ন): ৩০,০০০ টাকা

মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ (কেয়াইন ইউনিয়ন): ১২,০০০ টাকা

মাওলানা হারুনুর রশিদ (বালুচর ইউনিয়ন): ৬,৫০০ টাকা

জসিম উদ্দিন (রাজানগর ইউনিয়ন): ৫,৬০০ টাকা

বিকাশের মাধ্যমে (০১৩১৪৬৩৩৪৫১ ও ০১৩০৭৯৫০২৮১ নম্বরে) টাকা পাঠানোর পর সিরাজদিখান উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকেরা জানতে পারেন, উক্ত নামে কোনো কর্মকর্তা সেখানে নেই এবং অধিদপ্তর থেকে এমন কোনো কর্মসূচিও চালু নেই। পরবর্তীতে প্রতারকদের মোবাইল নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে সাবেক সুপারভাইজার রেশমা খানম তাঁদের কেন্দ্র বাতিলের হুমকি দেন।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

রেশমা খানম (সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার): তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে জানান, সিরাজদিখানে থাকাকালে তিনি এমন কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

সুমন মধু (সিরাজদিখান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা): তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এ ধরনের কোনো অনুদান বা লেনদেনের সুযোগ নেই। প্রতারক চক্র অধিদপ্তরের নাম অপব্যবহার করেছে এবং এর সঙ্গে কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।

ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রতারক চক্রসহ সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরতের জোর দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media