পুলিশের পোশাকে রাজনৈতিক বক্তৃতা—ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ওসি কি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন?
- আপডেট টাইম : ০৪:১৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১২৪ ০০০.০০.বার দেখেছেন

পুলিশের দায়িত্ব কি রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া, নাকি জনগণের জানমাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে ঘিরে।
সম্প্রতি ওই পুলিশ কর্মকর্তার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার একটি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা মতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছেন কি না, কিংবা তাঁর বক্তব্য পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—তা নিয়ে উঠছে নানা আলোচনা।
পুলিশ জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে আইন প্রয়োগ করবেন, অপরাধ দমন করবেন এবং সব নাগরিকের প্রতি সমান আচরণ করবেন।
কিন্তু একজন থানার ওসি যদি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—তিনি কি পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন, নাকি কোনো রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করছেন?
ওসির বিরুদ্ধে আরও যেসব অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, ওই থানার কার্যক্রম ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক কারবার, চোরাচালান এবং জমি দখলকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় নাগরিকরা।
অভিযোগ রয়েছে, থানার অধিক্ষেত্রে সংঘটিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং সরকারি নথিপত্র যাচাই না করে কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তাহলে প্রশ্ন—ওসির দায়িত্ব আসলে কী?
একজন ওসির প্রধান দায়িত্ব থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ প্রতিরোধ, অভিযোগ গ্রহণ, তদন্তে সহযোগিতা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নন—রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
তাই রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতি, মাদক, চোরাচালান ও জমি দখলসংক্রান্ত অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন এবং একই সঙ্গে তাঁর থানার কার্যক্রম নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি কি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে?
অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা তদন্তেই পরিষ্কার হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে, রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়টি এবং থানার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতি, মাদক কারবার, চোরাচালান ও জমি দখলসংক্রান্ত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
কারণ পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা নির্ভর করে একটি বিষয়েই—পুলিশ দলীয় নয়, পুলিশ জনগণের।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।













