Dhaka ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৩ সালেই উচ্চ আদালতে বাতিল মূল দলিল, এরপরও পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ! গাজীপুরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হামলা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | দৈনিক সময়ের কণ্ঠ
  • আপডেট টাইম : ১০:২৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২০ ০০০.০০.বার দেখেছেন

গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন বরেন্দা মৌজায় পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী হাবিল উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের জমির মালিকানা দাবি করতে প্রতিপক্ষ যে মূল দলিলের ওপর নির্ভর করেছিল, সেই দলিল ২০২৩ সালে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। এরপরও ওই বাতিল দলিলের সূত্র ধরে তৈরি পরবর্তী দলিল দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করা হচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পরও এভাবে মালিকানা দাবি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারটির দাবি, উচ্চ আদালত মূল দলিল বাতিল করে দেওয়ার পর ওই দলিলের ভিত্তিতে তৈরি পরবর্তী দলিলগুলোর আইনগত ভিত্তি নিয়েও আদালতে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে বলা হয়েছে—যে মূল দলিলের ভিত্তি আর বহাল নেই, তার ওপর নির্ভরশীল পরবর্তী দলিলগুলোরও কার্যকারিতা নিয়ে আইনগত প্রশ্ন রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমির নামজারি/খারিজের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টিও তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, প্রকৃত মালিকরা যদি জমি বিক্রি না করে থাকেন, তাহলে তাঁদের জমি বিক্রির দলিল কীভাবে তৈরি হলো? যে দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করা হয়েছিল, সেটিই যদি ২০২৩ সালে উচ্চ আদালত বাতিল করে থাকেন, তাহলে সেই বাতিল দলিলের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী দলিল দেখিয়ে মালিকানা দাবি করার আইনগত ভিত্তি কী?

হাবিল উদ্দিনের পরিবারের আরও অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করতেন। বর্তমানে তাঁরা বিএনপির রাজনৈতিক ছত্রছায়া পাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে জমি নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ হয়নি।

পরিবারটির দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন করে একটি মামলা করা হয়েছে, যা তাঁরা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা বলে দাবি করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং জমিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে আবারও পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ মে হাবিল উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে পৈতৃক জমি উদ্ধারে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। সে সময়ও তাঁরা জাল দলিলের মাধ্যমে জমি আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছিলেন। ২০২৫ সালেও জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনা বর্তমান বিরোধের পূর্বাপর প্রেক্ষাপট; ২০২২ ও ২০২৫ সালের ঘটনাকে ২০২৬ সালের নতুন ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বর্তমানে জমিটি তাঁদের দখলে রয়েছে। তাঁরা চান, উচ্চ আদালতের আদেশ, জমির মূল মালিকানার কাগজপত্র এবং নামজারি/খারিজ-সংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক। একই সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জমি নিয়ে কোনো ধরনের জবরদখল, হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নথি যাচাই: এ ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বক্তব্য এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট মহানগর নেতৃত্বের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। উচ্চ আদালতের ২০২৩ সালের দলিল বাতিলের আদেশ, পরবর্তী দলিলগুলোর বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং জমি খারিজের অনুমোদনসংক্রান্ত আদেশের কপি যাচাই করে প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধান: আদালতের আদেশের পরও যদি বাতিল দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি, ভয়ভীতি বা দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুতর। জমি-সংক্রান্ত বিরোধে কোনো পক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আদালতের আদেশ ও বৈধ কাগজপত্রই চূড়ান্ত বিবেচ্য হওয়া উচিত।

অনুসন্ধান চলমান…

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media