Dhaka ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চান্দিনায় জমি নিয়ে বিরোধ, ঘর নির্মাণে বাধা ও হুমকির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় সাংবাদিক সম্মেলন

আলমগীর হোসেন আলম কুমিল্লা ব্যুরোপ্রধান, দৈনিক সময়ের কণ্ঠ
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৯৮ ০০০.০০.বার দেখেছেন

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার এলাকায় জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘর নির্মাণে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মো. মোহন মৈশানের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জহির মৈশান পিতা মোঃ শামসুল হক মৈশান সাং মাইজখার পো : বদর পুর থানা চান্দিনা জেলা কুমিল্লা।  অন্যদিকে, বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি ও নিজেদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানা দাবি
অভিযোগকারী জহির মৈশানের দাবি, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার মৌজায় মতিন মৈশান ও তাঁর বোনের কাছ থেকে তিনি মোট ২৬ শতক জমি ক্রয় করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান নম্বর ১৫০৪, আরএস দাগ নম্বর ৬৪৯ এবং বিএস দাগ নম্বর ১৪৭৭। জমিটি ক্রয় করার পর প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন ও সরকারি রাজস্ব-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিনি ক্রয়সূত্রে মালিকানা অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন।
জহির মৈশানের ভাষ্য,জমিটি ক্রয়ের পর থেকে তিনি দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে প্রতিপক্ষ মোহন মৈশান বাধা সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। ঘর নির্মাণ বন্ধ করার চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি।
পাল্টাপাল্টি বিরোধে সাংবাদিক সম্মেলন
জহির মৈশান অভিযোগ করেন, তাঁর ঘর নির্মাণের বিষয়কে কেন্দ্র করে মোহন মৈশান পিতা মৃত কোরবানআলী মৈশান  সর্ব সাং মাইজখার পো:বদরপুর বাজার থানা চান্দিনা জেলা কুমিল্লা  গনেরা অযথা বিরোধ সৃষ্টি করছেন। এমনকি এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জহির মৈশানের বক্তব্য, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র ও ভূমি রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন,সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলনে জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরেন জহির মৈশান। এ সময় তিনি নিজের ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন যার দলিল নং ৫৪৪।বহি নং ১ যার তারিখ  ২১।১।২৫ ইং সাফ কাবলা দলিল মূলে ক্রেতা জহির মৈশান ( শাহিন মৈশান) যিনি প্রকৃতির পক্ষে মালিক হয়ে মোহন মৈশানের বিরুদ্ধে  প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারপ্রার্থনা করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহন মৈশানের বক্তব্য জানা সম্ভব না হওয়ায় তাঁর পক্ষের দাবি ও বক্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি।
থানায় অভিযোগের আলোকে, পুলিশের তদন্তের দাবি
জহির মৈশানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের মতে, জমির দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা এবং বিরোধের কারণ নির্ধারণ করা জরুরি।
অভিযোগকারীর দাবি, বিষয়টি তদন্ত করতে পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থলে গেলেও মোহন মৈশান তদন্তকাজে সহযোগিতা করেননি। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের বরাত দিয়ে অভিযোগকারী এমন দাবি করেছেন। তবে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য  একই ভাবে ব্যক্ত করেন বিবাদী পক্ষ মোহন মৈশান তদন্ত কাজে কোন রকম সাহায্য করেন নি তিনি ক্ষমতার প্রভাব সৃষ্টি পূর্বক  উচ্চবাচ্য করে জায়গা দখল নিবেন বলে জানান।
স্থানীয় পর্যায়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট জমির বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বিরোধ নিরসনে আবেগ বা পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিবর্তে প্রামাণ্য দলিল, ভূমি রেকর্ড এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণই হবে সঠিক পথ। এতে প্রকৃত মালিকের অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media