Dhaka ০৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশির মনির যেন বাংলাদেশের ‘কেডি পাঠক’! বাঁচালেন ১০ আসামির প্রাণ, নুসরাত মামলায় হাইকোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১২৯ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার বহুল আলোচিত রায়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস, চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। আসামিপক্ষে আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন শিশির মনির।

রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শিশির মনির মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নুসরাত মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে চারজন বোরকা পরা নারীর কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মামলায় যাদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। ফলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা চার নারীর সঙ্গে মামলার আসামিদের মিল না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

শিশির মনির আরও প্রশ্ন তোলেন—সাইক্লোন সেন্টারের তিনতলার ওপরে নুসরাতের শরীরে কীভাবে আগুন লাগানো হলো এবং আশপাশের কেউ তা টের পেল না কেন। তাঁর মতে, নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। পরবর্তীতে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয় হাইকোর্টে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এবার ১০ আসামি খালাস পাওয়ায় মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

হাইকোর্টের রায়ে একইসঙ্গে নিম্ন আদালতের বিচারকের বিচারিক ভূমিকা নিয়েও গুরুতর পর্যবেক্ষণ এসেছে। আদালত আইন মন্ত্রণালয়কে ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারককে ফৌজদারি মামলার বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আইনজীবী শিশির মনিরের যুক্তি ও আদালতের পর্যবেক্ষণের কারণে নুসরাত হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ১০ আসামির খালাস মানেই তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না—এমন চূড়ান্ত মন্তব্যের বদলে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে দেওয়া যুক্তি ও পর্যবেক্ষণই এ বিষয়ে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইন অঙ্গনে অনেকেই বলছেন, বহুল আলোচিত এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়নের প্রশ্নটি সামনে এনেছেন শিশির মনির। জনপ্রিয় চরিত্র ‘কেডি পাঠক’-এর সঙ্গে তাঁর তুলনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিতে পারে, তবে বাস্তবে তিনি একজন আইনজীবী এবং আদালতের নথি, সাক্ষ্য ও আইনি যুক্তির ভিত্তিতেই তাঁর ভূমিকা মূল্যায়ন করা উচিত।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media