Dhaka ০৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইল নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম : ১১:৪২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২০ ০০০.০০.বার দেখেছেন

সাম্প্রতিক ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরাইলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার ইসরাইলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন তিনি। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। ফলে তার ঘোষণার প্রকৃত অর্থ ও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

বাস্তবে এ ঘোষণার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে যতটা বড় বলে মনে হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তা হয়তো ততটা সুদূরপ্রসারী হবে না। তবে এর মধ্য দিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের নতুন এক জটিল অধ্যায় সামনে এসেছে। ইরান যুদ্ধে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অথচ এ যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের অন্যতম কারণ।

অন্যদিকে গত সপ্তাহের নির্বাচনে ইসরাইলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের মতো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটির রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এমন এক সংকটময় সময়ে ট্রাম্পের এ ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এ ছাড়া আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তিত গতিপ্রকৃতিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল সাইয়েদের ইসরাইলকে আমেরিকান সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতার অবস্থানের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যের এক ধরনের মিল পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নটি আমেরিকায় ক্রমেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় ইসরাইলপন্থি অবস্থানেও ফাটল দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নতুন প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেট ইসরাইলকে সহায়তার প্রশ্নে কী অবস্থান নেয়—তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসরাইলের ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নীতির প্রশ্নও। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে একাধিক রিপাবলিকান প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার বিরুদ্ধে আমেরিকার অভ্যন্তরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রশ্নে কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শুধু ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার ওপরই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দীর্ঘদিনের নীতিতেও পড়তে পারে। ফলে বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য ভরাডুবির আশঙ্কার মধ্যে ট্রাম্পের এ ঘোষণা রাজনৈতিক কৌশলের অংশও হতে পারে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ অর্থ দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও ইসরাইলের প্রয়োজন হলে আমেরিকা সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ ঘোষণা এমন এক নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে এসেছে, যখন ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যু ক্রমেই আমেরিকায় অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল আল-সাইয়েদের মতো ব্যক্তিদের ইসরাইলকে আমেরিকান সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের বক্তব্য তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি। মিশিগানের এই ডেমোক্র্যাট নেতার দাবি, ইসরাইলের স্বার্থে আমেরিকা যে যুদ্ধে জড়িয়েছে, তার প্রভাব পড়ছে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media