Dhaka ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পাদকীয় সংসদে খুনসুটি নয়, জনগণের হিসাব চাই—মিনিটে পৌনে তিন লাখ খরচের সংসদ কতটা জনবান্ধব?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ১২:১৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৭৬ ০০০.০০.বার দেখেছেন

জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। সেখানে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা হবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

কিন্তু যখন সংসদের অধিবেশনে রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা, ব্যক্তিগত খোঁচা, কবিতা কিংবা ধর্মীয় আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—জনগণের টাকায় চলা সংসদ কি জনগণের সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?

সংসদে এক মিনিটের কার্যক্রমে ২ লাখ ৭২ হাজার টাকার বেশি ব্যয়ের কথা সংসদেই বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি মিনিটের সঙ্গে জনগণের করের টাকা জড়িয়ে আছে। সেই অর্থে একজন সংসদ সদস্যের প্রতিটি বক্তব্য, প্রতিটি মিনিট এবং প্রতিটি বিতর্কেরও জনস্বার্থের কাছে জবাবদিহি থাকা উচিত।

কবিতা পড়া অপরাধ নয়। কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করাও অপরাধ নয়। রাজনৈতিক রসিকতাও গণতন্ত্রের অংশ হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এসবের পরিমাণ ও প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু?

দেশের একজন দিনমজুর যখন বাজারে গিয়ে চাল-ডাল-তেল কিনতে হিমশিম খান, একজন বেকার যুবক যখন চাকরির আশায় ঘুরে বেড়ান, একজন কৃষক যখন উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের হিসাব মেলাতে পারেন না—তখন সংসদে তাদের কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে জোরালো হওয়া দরকার।

সরকার কতদিন থাকবে—এ প্রশ্নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যতদিনই থাকুক, সরকার জনগণের জন্য কী রেখে যাবে?

আজ যে দল সরকারে, কাল তারা বিরোধী দলে যেতে পারে। আজ যারা বিরোধী দলে, আগামীকাল তারা সরকারে যেতে পারে। ক্ষমতার এই আসা-যাওয়ার খেলায় জনগণ যেন বারবার শুধু দর্শক না হয়।

শফিকুর রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। সংসদে তর্ক-বিতর্কও থাকবে। কিন্তু সেই বিতর্ক যেন জনগণের সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার হয়, জনগণের অর্থে চলা সময়ের অপচয়ের কারণ না হয়।

আমরা চাই—সংসদে কবিতা থাকুক, ইতিহাস থাকুক, ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোচনা থাকুক; কিন্তু সবকিছুর আগে থাকুক জনগণের রুটি-রুজি, নিরাপত্তা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ।

কারণ সংসদ কারও ব্যক্তিগত মঞ্চ নয়।
সংসদ জনগণের। টাকা জনগণের। সময় জনগণের।

তাই প্রশ্ন একটাই—
মিনিটে পৌনে তিন লাখ টাকা খরচ হলে সেই প্রতিটি মিনিটের হিসাব কি জনগণ পাচ্ছে?

এই হিসাব দেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকার বা বিরোধী দলের নয়—**প্রতিটি সংসদ সদস্যের।**

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media