ফের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও আঘাতের প্রস্তুতি ইরানের
- আপডেট টাইম : ১২:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৭৮ ০০০.০০.বার দেখেছেন

দুবাই, ২ অক্টোবর ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালে আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। সম্ভাব্য হামলার জবাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সামরিক কমান্ডাররা সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু, ভৌগোলিক পরিধি এবং সময় নিয়ে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন। নতুন কোনো মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এবার আরও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইরানের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী দেশগুলোর কিছু স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুও পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোন দেশ বা কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কূটনীতির দরজাও খোলা রাখছে তেহরান
সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি ইরান কূটনৈতিক সমাধানের পথও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় ইরান কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবের সঙ্গে ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের আটকে থাকা অর্থের একটি অংশ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়ও যুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপেও ইরানের উদ্বেগ
দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরেও উদ্বেগ রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং তেল রপ্তানির ওপর চাপ দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে তেল রপ্তানি ইরানের রাজস্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়ায় অবরোধ ও সামরিক সংঘাত দেশটির অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও বাজারব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রও বাড়াচ্ছে সামরিক প্রস্তুতি
এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিও বাড়ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিস্তৃত করার পরিকল্পনার খবর সামনে এলো।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে প্রভাব
বিশ্লেষকদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—সংঘাত যদি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এর প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন, বিমান চলাচল এবং বিশ্ববাজারেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০২ দশমিক ২৮ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ৯২ দশমিক ৬৮ ডলার পর্যায়ে ছিল।
ফলে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কোনো ধরনের বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর তার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।
সার্বিকভাবে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত থাকায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ইরান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি; রয়টার্সের প্রতিবেদনটি সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা ও কর্মকর্তাদের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।















