রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন: প্রশ্ন রয়ে যায়—রাষ্ট্রপতি কি দলীয় হবেন, নাকি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ?
- আপডেট টাইম : ১২:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / ৩৯৪ ০০০.০০.বার দেখেছেন

সম্পাদকীয় | সময়ের কণ্ঠ পত্রিকা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এ বিষয়ে আলোচনা উঠে এসেছে।
আমরা দোয়া করি, মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে দেশ ও জাতির কল্যাণে ন্যায়ভিত্তিক, বিচক্ষণ ও সংবিধানসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফিক দান করুন।
তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়—বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কি বারবার কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে আসীন হবেন? রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানগতভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি। তাই এই পদে এমন একজন ব্যক্তির প্রত্যাশা করে জনগণ, যিনি সকল রাজনৈতিক মতের ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্ট্রের ঐক্য, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে কাজ করবেন।
যদি রাষ্ট্রপতি নিয়োগ বা নির্বাচন নিয়ে জনগণের মনে দলীয়করণের ধারণা থেকেই যায়, তাহলে নিরপেক্ষতার প্রশ্নও থেকেই যাবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে ভবিষ্যতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যোগ্যতা, সততা, গ্রহণযোগ্যতা ও সর্বজনীন আস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত—এমন প্রত্যাশাই সাধারণ মানুষের।
রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়াতেই হবে। তবে জনগণের প্রত্যাশা একটাই—বাংলাদেশ এমন একজন রাষ্ট্রপতি পাক, যিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পুরো জাতির রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রাষ্ট্রপতিই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

















