নিয়ামতপুরে শ্মশানঘাটে শেষকৃত্যে বাধার অভিযোগ
- আপডেট টাইম : ০১:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ২৬ ০০০.০০.বার দেখেছেন

নওগাঁর নিয়ামতপুরে দীর্ঘ প্রায় ১৫০ বছর ধরে ব্যবহৃত বালিচাঁদ হিন্দুপাড়ার শ্মশানঘাটে এক নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর শ্মশানঘাটে যাতায়াতে নিষেধ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকজন। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর সদর ইউনিয়নের বালিচাঁদ হিন্দুপাড়ায় রবিদাস সম্প্রদায়ের মানুষ প্রায় ১৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই বংশপরম্পরায় ওই গ্রামের শ্মশানঘাটে তাঁদের সম্প্রদায়ের মৃত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে আসছেন তাঁরা।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে গ্রামের মৃত নীরবাশা রানীর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা শ্মশানঘাটে গেলে স্থানীয় আব্দুল হামিদ (৭০), আব্দুল কাশেম (৫৫), আব্দুর রহিম (৫০), বেলাল (৪৫), ইব্রাহিম (৪৫), জহিল (৪৩) ও গোলাম মোরশেদ (৩৭)সহ তাঁদের ওয়ারিশ ও আরও কয়েকজন শেষকৃত্যের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
রবিদাস সম্প্রদায়ের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তাঁদের লোকজন শ্মশানঘাটে যাতায়াত করলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে দীর্ঘদিনের বসবাস ও বংশপরম্পরায় ব্যবহৃত শ্মশানঘাটে যাতায়াত নিয়েও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।
তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শ্মশানঘাট হিসেবে ব্যবহৃত জায়গাটি তাঁরা ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করছেন। তাঁদের দাবি, ওই জায়গাটি শ্মশান হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে রবিদাস সম্প্রদায়ের কোনো কাগজপত্র নেই। তাঁদের ক্রয় করা জায়গায় মরদেহ নিয়ে মাটি দিতে আসায় তাঁরা নিষেধ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে।
এ বিষয়ে রবিদাস সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, শ্মশানঘাটে নির্বিঘ্নে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের জানমালের নিরাপত্তায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরশিদা খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















